ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ খাবার পানি জোগাড় করাই প্রতিদিনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। এই বাস্তবতা সামনে রেখে আমরা সারা বাংলাদেশে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনা করি। আমাদের লক্ষ্য সহজ — একটি পরিবার যেন বহু দূর না হেঁটে, সামর্থ্যের বাইরে খরচ না করে এবং পানির মান নিয়ে দুশ্চিন্তা না করেই খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে পারে।
কাজ শুরু হয় এলাকার মানুষের কথা শোনা দিয়ে। বাসিন্দা ও স্থানীয় কমিটির সঙ্গে বসে আমরা জেনে নিই — এখন কোথা থেকে পানি আনা হয়, শুষ্ক মৌসুমে কোন উৎস অকেজো হয়ে পড়ে, আর নলকূপ বা সরবরাহ লাইন নষ্ট হলে কে তা মেরামত করে। এরপর এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পানির উৎস স্থাপন ও পুরোনো উৎস সংস্কারে, ব্যবহৃত উৎসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে, ঘরে পানি বহন ও সংরক্ষণের নিরাপদ পদ্ধতিতে এবং সন্দেহ থাকলে পানির মান পরীক্ষায় আমরা সহযোগিতা করি। পাশাপাশি পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করি, কীভাবে উৎস থেকে গ্লাস পর্যন্ত পানি নিরাপদ রাখা যায় — কারণ কেবল ভালো উৎসই যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশে পানির সংকট শুধু পরিমাণের নয়, মানেরও। ভূগর্ভস্থ পানির কোথাও কোথাও আর্সেনিক, উপকূলের দিকে লবণাক্ততার বিস্তার, নদী ও খালে শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যাওয়া — সবই পরিচিত সমস্যা। যেখানে একটি উৎসের ওপর অনেক পরিবার নির্ভরশীল, সেখানে সবচেয়ে কম সামর্থ্যের মানুষকেই টাকায় বা সময়ে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। আর পানি আনার দায়িত্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বর্তায় নারী ও কিশোরীদের ওপর, যা তাদের পড়াশোনা ও কাজের সময় কেড়ে নেয়।
এই কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সবার জন্য খোলা। কোথায় পানির উৎস দরকার তা নির্ধারণে এবং উৎস দেখভালের কমিটি গঠনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসতে পারেন; স্বেচ্ছাসেবকেরা সচেতনতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন; শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন; আর সহায়তাকারীরা কারিগরি বা আর্থিকভাবে পাশে থাকতে পারেন। আগ্রহী হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।