আমরা স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে কাজে লাগে এমন স্বাস্থ্যজ্ঞান পৌঁছে দিই। আমরা স্বল্পমেয়াদি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা শেখেন নিরাপদ খাবার পানি ও ঘরোয়া পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস, মা ও শিশুর পুষ্টি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সাধারণ আঘাতে করণীয়, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চেনা, এবং কখন ঘরোয়া যত্নের বদলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমরা সচেতনভাবেই প্রশিক্ষণকে এলাকাভিত্তিক রাখি। স্থানীয়ভাবে সহজে পৌঁছানো যায় এমন জায়গায় আমরা প্রশিক্ষণ করি এবং সবকিছু সহজ বাংলায় বোঝাই। দীর্ঘ বক্তৃতার বদলে আমরা দেখিয়ে দেওয়া ও নিজে হাতে করে শেখার ওপর জোর দিই, যাতে লেখাপড়ার সুযোগ কম পাওয়া মানুষও পূর্ণভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে আমরা অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করি শেখা বিষয়গুলো প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে, কারণ গ্রামে কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে পাড়ায় স্বাস্থ্যসচেতনতা এভাবেই সবচেয়ে ভালো ছড়ায়।
এই কাজ জরুরি, কারণ আমাদের দেশে যত রোগ দেখা যায়, তার বড় একটি অংশ প্রতিরোধযোগ্য এবং পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক, দূষিত নদী ও খোলা জলাশয়, ইটভাটা ও রান্নার চুলার ধোঁয়া এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের নির্গমন শ্বাসতন্ত্রের রোগ, পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের অন্যতম পরিচিত কারণ। তাই পরিবেশ রক্ষার কাজ আর মানুষের স্বাস্থ্যের কাজ আমাদের কাছে আলাদা কিছু নয়।
আমরা এই প্রশিক্ষণে স্বাগত জানাই নারীদের দল, তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের দায়িত্বে থাকা যে কাউকে। আমরা আগে থেকে কোনো বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা চিকিৎসা বিষয়ে অভিজ্ঞতা চাই না; শুধু শেখার আগ্রহ আর শেখা জিনিসটি অন্যদের জানানোর ইচ্ছাটুকু থাকলেই হয়।