← ফিরে যান

শব্দ দূষণ বিষয়ে চালকদের সচেতনতা

শব্দ দূষণ সম্পর্কে দেশের ড্রাইভারদের সচেতন করা।

শব্দদূষণ সম্পর্কে চালকদের সচেতন করতে আমরা দেশজুড়ে কাজ করি। এই কর্মসূচির মূল বিষয় হর্নের ব্যবহার। কখন হর্ন সত্যিই প্রয়োজন, কখন তা নিছক শব্দ বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই করে না, আর চালকের ছোট ছোট অভ্যাস কীভাবে গোটা সড়কের পরিবেশ বদলে দেয়, আমরা সেটিই বোঝানোর চেষ্টা করি। আমরা কাউকে দোষারোপ করি না, কারণ সড়কের পরিবর্তন আসে প্রতিদিন বারবার নেওয়া ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই।

কাজের ধরনটি সহজ। যেখানে চালকেরা এমনিতেই জড়ো হন, যেমন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, স্ট্যান্ড, গ্যারেজ ও মেরামত কারখানা এবং পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়, সেখানে গিয়ে আমরা সংক্ষিপ্ত সচেতনতামূলক সভা করি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা চালক ও হেলপারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, বাংলায় লেখা সহজবোধ্য প্রচারপত্র পৌঁছে দেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা—যেখানে নিরিবিলি পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি—সেখানে পোস্টার লাগান। পাশাপাশি গাড়ির মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আমরা উৎসাহিত করি হাইড্রোলিকসহ নিষিদ্ধ ও অতিরিক্ত উচ্চ শব্দের হর্ন খুলে ফেলতে। যেসব চালক সহকর্মীদের সামনে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে আগ্রহী, আমরা তাঁদের পাশে থাকি।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর ভোগান্তি প্রায় সবার নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যায়, ঘুম ও মনঃসংযোগ নষ্ট হয় এবং মানসিক চাপ বাড়ে। শিক্ষার্থীর পড়াশোনা আর হাসপাতালের রোগীর বিশ্রাম দুটোই ব্যাহত হয়। শহরাঞ্চলে যানবাহন এই শব্দের অন্যতম প্রধান উৎস, আর এর বড় অংশই এড়ানো সম্ভব।

চালক, হেলপার, পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবক সবাই এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারেন। নিজের এলাকায় সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।