বাংলাদেশে নির্মাণকাজে পোড়া মাটির ইটের ব্যবহার কমিয়ে আনতে এবং তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর বিকল্প উপকরণ বেছে নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করি। কেউ যখন ঘর বা স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, তখনই তিনি যেন জানতে পারেন—পোড়া ইটই একমাত্র উপায় নয়, আর এই ইট তৈরির পেছনে মাটি ও বাতাসকে কী মূল্য দিতে হয়।
ইটভাটায় বিপুল পরিমাণ কয়লা ও কাঠ পোড়ানো হয়, আর যে মাটি দিয়ে ইট তৈরি হয় তা কেটে নেওয়া হয় ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে। শুষ্ক মৌসুমে দেশের বড় অংশজুড়ে যে ভারী বায়ুদূষণ জমে ওঠে, ইটভাটার ধোঁয়া তার অন্যতম উৎস; সেই ধোঁয়ার ভার সবার আগে বহন করেন ভাটার শ্রমিক ও আশপাশে বসবাসকারী পরিবারের মানুষ। দূষণের যে অল্প কয়েকটি ক্ষেত্রে নির্মাণের শুরুতেই নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়, নির্মাণ উপকরণ বাছাই তার একটি।
আমাদের কাজের বড় অংশই আলোচনা। আমরা এলাকাভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা করি এবং রাজমিস্ত্রি, ঠিকাদার, ছোট আবাসন ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলি কংক্রিট ব্লক, ফাঁপা ব্লক, চাপ দিয়ে তৈরি মাটির ব্লকসহ না-পোড়ানো নানা উপকরণ নিয়ে; পাশাপাশি এমন নকশার কথাও তুলে ধরি যাতে ইটের প্রয়োজন এমনিতেই কমে আসে। একই বার্তা আমরা পৌঁছে দিই স্কুল ও তরুণদের আসরে, কারণ আগামী দিনের ঘরগুলো যাঁরা গড়বেন, তাঁরা এখন শ্রেণিকক্ষে।
এই কাজে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন। আপনি যদি নির্মাণের পরিকল্পনা করে থাকেন, নির্মাণ পেশার সঙ্গে যুক্ত হন, শিক্ষকতা করেন, কিংবা নিজের এলাকায় এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান—আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই।