গাড়ির সাইলেন্সার দিয়ে বেরিয়ে আসা ঘন কালো ধোঁয়া বাংলাদেশের বাতাসে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দূষণগুলোর একটি, আবার সবচেয়ে সহজে কমিয়ে আনা সম্ভব দূষণগুলোরও একটি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছাই, যাঁদের হাতেই এর সমাধান—গাড়ির মালিক, চালক, হেলপার, পরিবহন শ্রমিক এবং যে মিস্ত্রিরা ইঞ্জিন সচল রাখেন, তাঁরা।
আমরা বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, গাড়ির স্ট্যান্ড আর রাস্তার পাশের গ্যারেজে ছোট পরিসরে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আয়োজন করি। সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলি, কালো ধোঁয়া আসলে কী—পুরোপুরি না পোড়া জ্বালানি আর এত সূক্ষ্ম কণা যে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে যায়। কারণগুলোও চালকদের অজানা নয়: জমে যাওয়া ফিল্টার, ইঞ্জিন ঠিকমতো টিউন না করা, ভেজাল জ্বালানি, অতিরিক্ত বোঝা এবং দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকা। আমরা দেখিয়ে দিই, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে ধোঁয়া যেমন কমে, তেমনি জ্বালানির খরচও কমে—আর যে উপায়ে টাকা বাঁচে, সেই অভ্যাসই টিকে থাকে।
গাড়ির ধোঁয়া সড়কেই আটকে থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের দোকানপাট, বাজার ও বসতবাড়িতে, ধুলা ও অন্যান্য উৎসের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে দেশজুড়ে বায়ুদূষণের চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে। এই বাতাস সবচেয়ে বেশি যাঁদের নিঃশ্বাসে যায়, সুরক্ষার সুযোগ তাঁদেরই সবচেয়ে কম—ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, ফুটপাতের দোকানি, সড়কের পাশে কাজ করা শ্রমিক আর স্কুলে যাওয়া-আসা করা শিশুরা।
এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক, গ্যারেজ মালিক ও মিস্ত্রি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং নিজের এলাকায় এই বার্তা পৌঁছে দিতে আগ্রহী যে কেউ। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন, আবার নিজের গাড়ির ইঞ্জিন পরিষ্কার রাখার উপায় জানতে চাইলেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।