← ফিরে যান

৳2000 BDT

আর্সেনিকমুক্ত পরিকল্পনায় পানি পরীক্ষা

আর্সেনিক ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় পানি পরীক্ষা।

পানির রং দেখে, গন্ধ শুঁকে কিংবা স্বাদ নিয়ে আর্সেনিক বা লবণাক্ততা বোঝার কোনো উপায় নেই। এ কারণেই আমরা দেশের বিভিন্ন জনপদে পানি পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করি, যাতে প্রতিটি পরিবার জানতে পারে তারা প্রতিদিন যে পানি পান করছে তা নিরাপদ কি না। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ খাবার পানির জন্য নলকূপের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল, আর অনেক এলাকার সেই পানিতেই আর্সেনিক থাকে। উপকূলীয় জনপদে আবার লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় পানি পান ও রান্নার উপযোগী থাকে না।

আমাদের কর্মীরা সরাসরি উৎসের কাছে গিয়ে নলকূপ, বাড়ির পানির সংযোগ ও এলাকার সবার ব্যবহার করা সাধারণ পানির উৎস সেখানেই পরীক্ষা করেন। প্রতিটি উৎসের ফল আমরা আলাদা করে লিখে রাখি এবং উৎসের গায়ে স্পষ্ট চিহ্ন দিই, যেন ওই উৎস থেকে যাঁরা পানি নেন তাঁরা সবাই এক নজরেই বুঝতে পারেন। ফল কী বোঝাচ্ছে, পান করা ও রান্নার ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে ঘরের শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এর অর্থ কী, তা আমরা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলি।

কোনো উৎস অনিরাপদ পাওয়া গেলে শুধু ফলাফল জানিয়ে আমরা দায়িত্ব শেষ করি না। পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বসে আমরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করি। কাছাকাছি পরীক্ষিত নিরাপদ উৎস ব্যবহার, পান করার আগে পানি পরিশোধন, উপযুক্ত জায়গায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপদ পানির উৎসের জন্য আবেদন, পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব পথ খোলা থাকে। আর্সেনিকের ক্ষতি শরীরে জমে ধীরে ধীরে এবং রোগ হয়ে ধরা পড়ে অনেক পরে, তাই আগেভাগে জেনে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

এই কার্যক্রমে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্থানীয় কমিটি নিজেদের পানির উৎস পরীক্ষার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরীক্ষার কাজে ও সচেতনতামূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগও সবার জন্য উন্মুক্ত।