আমরা সারা বাংলাদেশে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করি। বাতাস, পানি, মাটি ও গাছপালা — যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর আমাদের প্রতিদিনের জীবন দাঁড়িয়ে আছে, শিক্ষার্থীরা যেন তা বুঝতে পারে এবং নিজেদের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত কীভাবে সেই ব্যবস্থাকে রক্ষা করে বা ক্ষতি করে তা ধরতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ভারী পাঠ্যসূচিতে বাড়তি একটি বিষয় যোগ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং শ্রেণিকক্ষ, ঘর ও পাড়ায় কাজে লাগানো যায় এমন ব্যবহারিক বোঝাপড়া তৈরি করাই মূল কথা।
প্রশিক্ষণ হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনাতেই, আর তা বক্তৃতানির্ভর নয় — শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। সংক্ষিপ্ত শ্রেণিপাঠের সঙ্গে থাকে হাতে-কলমে কাজ: বর্জ্য আলাদা করা ও কমানো, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা, গাছ লাগানো এবং পরে তার পরিচর্যা করা, আশপাশের পানি ও বাতাসের অবস্থা নিজের চোখে দেখে বোঝা, আর যা দেখা গেল তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা। প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ ক্লাব গড়ে তুলতে সহায়তা করি, যাতে আমাদের দলের কাজ শেষ হওয়ার পরও উদ্যোগটি চলতে থাকে। শিক্ষকদেরও আলাদাভাবে ধারণা দেওয়া হয়, যাতে বাইরের কারও ওপর নির্ভর করতে না হয়। আমাদের সব উপকরণ বাংলায় তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী সাজানো।
এই কাজ জরুরি, কারণ বাংলাদেশের পরিবেশগত চাপ আমাদের খুব কাছের বিষয়। নদীতে গিয়ে পড়ছে কলকারখানা ও ঘরগৃহস্থালির বর্জ্য, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়ায় বেড়ে ওঠা শহর-জনপদের বাতাস ভারী হচ্ছে, অনেক এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের ঝুঁকি রয়েছে, নালা ও মাঠে জমছে প্লাস্টিক। পরিবারের ভেতরে শিক্ষার্থীরাই সাধারণত পুরোনো অভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বদলাতে রাজি হয়; শ্রেণিকক্ষে শেখা কথা তাদের হাত ধরেই ঘরে পৌঁছে যায়।
দেশের যেকোনো স্কুল বা কলেজ এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা স্বেচ্ছাসেবী — যে কেউ নিজের প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠান যতটুকু সময় দিতে পারে, সেই অনুযায়ী আমরা প্রশিক্ষণের দৈর্ঘ্য ও গভীরতা ঠিক করে নিই।