পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনতে আমরা দুটি কাজ একসঙ্গে করি — কেন এটি ক্ষতিকর তা মানুষের সামনে স্পষ্ট করে তোলা, আর বিকল্পগুলোকে সহজ ও অভ্যাসের অংশ করে তোলা। আমাদের মূল নজর সেই পাতলা বাজারের ব্যাগ ও একবার ব্যবহারের মোড়কের দিকে, যা ঘরে থাকে কয়েক মিনিট, অথচ নর্দমা, খাল বা মাঠে পড়ে থাকে বছরের পর বছর।
কার্যক্রমটি আমরা পরিচালনা করি স্কুল-কলেজ, বাজার ও এলাকাভিত্তিক সভার মাধ্যমে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস ও আলোচনাসভা করি, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে পলিথিন এড়িয়ে চলার সহজ অঙ্গীকার গড়ে তুলতে উৎসাহ দিই, আর দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলি কাপড়, পাট ও কাগজের ব্যাগ এবং হাতের কাছের জিনিস পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে। আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও একই উদ্দেশ্য পূরণ করে — স্বেচ্ছাসেবকেরা যখন আটকে থাকা নর্দমা থেকে পলিথিন তুলে আনেন, তখন ফেলে দেওয়া একটি ব্যাগ আর জলাবদ্ধ রাস্তার সম্পর্কটি আর কাগুজে কথা থাকে না।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে ফেলে দেওয়া পলিথিন কোথাও হারিয়ে যায় না। এটি পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে দেয়, ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা বাড়ায়, নদী ও খালে গিয়ে জমে, ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে মাটি ও পানিতে থেকে যায়; আবার খোলা জায়গায় পোড়ানো হলে এমনিতেই দূষিত বাতাসে যোগ হয় বাড়তি ধোঁয়া। এ দেশে আইন করে পলিথিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হলেও তা এখনো দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে আছে, তাই পরিবর্তনটা আনতে হয় ঘর ও দোকানের অভ্যাস থেকেই।
এই কাজে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, দোকানি, বাজার কমিটি ও পরিবারগুলো আমাদের সচেতনতামূলক সভায় অংশ নিতে পারেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে হাত লাগাতে পারেন, কিংবা কাপড়ের বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য একটি ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে দোকানের দেওয়া পলিথিন ব্যাগটি নিতে অস্বীকার করতে পারেন। দেশের যেকোনো প্রান্তের স্কুল বা এলাকাভিত্তিক সংগঠন চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করতে পারে।