আমরা বাংলাদেশ জুড়ে সরকারি রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিলে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করি। সরকারি রাস্তার পাশের জায়গা দেশের সবচেয়ে সহজলভ্য অথচ অনেকটাই অবহেলিত রোপণক্ষেত্রগুলোর একটি, আর রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ গাছ গোটা একটি পথের চেহারাই বদলে দেয় — যাঁরা সেই পথে হাঁটেন এবং পাশেই বসবাস করেন, তাঁদের সবার জন্য। কাজটি কেবল চারা লাগানো নয় — কোথায় লাগানো হবে, কে দেখাশোনা করবে এবং গাছগুলো কীভাবে টিকে থাকবে, সেই দায়িত্ব গুছিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল ভূমিকা।
প্রতিটি উদ্যোগ শুরু হয় রাস্তার পাশের মানুষের সঙ্গে আলোচনা দিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জমির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা এমন অংশ বেছে নিই, যেখানে চারা লাগালে যান চলাচল, পানি নিষ্কাশন বা বিদ্যুতের তারে সমস্যা হবে না। ধুলা, রোদ এবং নিম্নমানের বা অনুর্বর মাটি সহ্য করতে পারে এমন শক্তপোক্ত দেশীয় প্রজাতির চারা আমরা নির্বাচন করি। বর্ষার উপযুক্ত সময়ে রোপণ, গবাদি পশু চরে এমন জায়গায় বেড়া বা খাঁচা দিয়ে চারা রক্ষা, শুকনো মৌসুমে পানি দেওয়া, মরে যাওয়া চারার জায়গায় নতুন চারা লাগানো এবং প্রয়োজনমতো ডালপালা ছাঁটাই — এই পরিচর্যাটুকুও আমরা প্রকল্পের অংশ হিসেবেই ধরি। কতটি চারা লাগানো হলো তা নয়, কতটি গাছ বেঁচে রইল সেটিই আমাদের কাছে সাফল্যের পরিমাপ।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই কাজের প্রয়োজন স্পষ্ট। সড়কে যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলা বাড়ছে, লোকালয় ক্রমেই ঘন ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং গরমের সময় ছায়াহীন রাস্তা পথচারীর জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তার পাশের সারিবদ্ধ গাছ পথচারীকে ছায়া দেয়, ভারী বৃষ্টিতে সড়কের ঢাল ও মাটি ধরে রাখে, শব্দ কিছুটা কমায়, যানবাহন থেকে বাতাসে মেশা ধুলা ও ধোঁয়ার কিছুটা ছেঁকে নেয় এবং পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আশ্রয় হয়ে ওঠে।
এই কাজে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন — শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, যুব ও সমাজভিত্তিক সংগঠন, রাস্তার পাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। চারা রোপণের দিনে অংশ নেওয়া যায়, আবার রোপণের পর কয়েকটি গাছের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব নিয়েও যুক্ত থাকা যায়। আপনার এলাকার কাছাকাছি কোনো উদ্যোগে যোগ দিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।