সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা অনেকের মধ্যেই থাকে, কিন্তু কীভাবে শুরু করতে হয় তা জানা না থাকলে সেই ইচ্ছা কাজে রূপ নেয় না। এই ফাঁকটুকু পূরণ করতেই আমরা সামাজিক কল্যাণ কাজে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করি। প্রশিক্ষণে আমরা শেখাই—নিজের এলাকার প্রকৃত প্রয়োজন কীভাবে চিহ্নিত করতে হয়, ছোট পরিসরে একটি কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কীভাবে করতে হয়, দল গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন, সহজ ও স্বচ্ছ হিসাব রাখা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দায়িত্বের সঙ্গে সামলানো।
প্রশিক্ষণ আমরা আয়োজন করি অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের এলাকার কাছাকাছি, লম্বা বক্তৃতার বদলে আলোচনা ও হাতে-কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে। বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা হয়, অংশগ্রহণকারীরা নিজ এলাকায় ছোট ছোট দায়িত্ব নেন এবং পরে সবাই মিলে দেখে নেন কোনটা কাজে লেগেছে আর কোথায় ঘাটতি থেকে গেছে। প্রশিক্ষণ শেষে দলগুলো যেন একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে আমরা উৎসাহ দিই; আর নিজেরা কাজ শুরু করার পর পরামর্শের প্রয়োজন হলে অংশগ্রহণকারীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এই প্রশিক্ষণ জরুরি, কারণ বাংলাদেশে পরিবেশ ও সমাজের চাপ সবচেয়ে আগে টের পাওয়া যায় পাড়া-মহল্লার স্তরেই—দূষিত নদী ও খাল, নিরাপদ পানির সংকট, ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক, ফেলার জায়গা না থাকা বর্জ্য, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়া, আর বন্যা-ঝড়ের পর দীর্ঘ ভোগান্তি। বাইরের সহায়তা প্রতিটি গলিতে বা প্রতিটি বাড়ির উঠানে পৌঁছাতে পারে না; প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ পারেন, এবং বাইরের সাহায্য চলে যাওয়ার পরও তাঁরা এলাকাতেই থেকে যান।
নিজের এলাকার জন্য সময় দিতে আগ্রহী সবাইকে আমরা এই প্রশিক্ষণে স্বাগত জানাই—শিক্ষার্থী, প্রথমবারের মতো সুসংগঠিত কাজে যুক্ত হতে চাওয়া তরুণ-তরুণী, নারী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক, স্থানীয় সমাজকর্মী ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কিংবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি। আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই; ধর্ম, লিঙ্গ বা সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে আমরা সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিই।