দারিদ্র্য আমাদের দেশে কোনো একজন মানুষের একার সমস্যা নয়, তা গোটা পরিবারের সমস্যা। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের এই কর্মসূচিতে আমরা ব্যক্তিকে নয়, পরিবারকে একক ধরে কাজ করি। যে পরিবার সন্তানের পড়ার খরচ, চিকিৎসার ব্যয় বা দিনের খাবারের জোগান দিতেই হিমশিম খায়, তার হাতে আগামী দিনের পরিকল্পনা করার সুযোগ থাকে না। আমরা প্রথমে পরিবারের সঙ্গে বসি এবং বোঝার চেষ্টা করি ঘরে কী আয় আছে, কার কোন দক্ষতা আছে এবং কোথায় গিয়ে সবকিছু আটকে যাচ্ছে।
এরপর এককালীন সাহায্যের বদলে আমরা পরিবারটিকে ঘিরে সহায়তার একটি কাঠামো গড়ে তুলি। বাস্তবসম্মত একটি আয়ের পথ বেছে নিতে পরিবারকে সহায়তা করি এবং সেই কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করি। সঞ্চয়ের অভ্যাস ও হিসাব করে সংসার চালানোর বিষয়ে উৎসাহ দিই, আর সন্তানদের কাজে না পাঠিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে অভিভাবকদের পাশে থাকি। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষাসামগ্রী ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ আমাদের অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গেও পরিবারগুলোকে যুক্ত করি, যাতে এক দিকের অগ্রগতি অন্য দিকের ধাক্কায় নষ্ট না হয়।
বাংলাদেশে দারিদ্র্য আর পরিবেশের চাপ একসূত্রে বাঁধা। যে পরিবারগুলোর সামর্থ্য সবচেয়ে কম, তারাই দূষিত খাল ও নদীর কাছাকাছি বসবাস করে, আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে এবং ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যে দিন কাটায়। বন্যা, নদীভাঙন বা একটি খারাপ মৌসুমে কাজ হারানোর ক্ষতিও তাদেরই সবচেয়ে বেশি সইতে হয়। ঘরে আয়ের কিছুটা স্থিতি এলে পরিবার নিজের স্বাস্থ্য ও চারপাশের পরিবেশের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
দেশের যেকোনো প্রান্তের স্বল্প আয়ের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। নারীপ্রধান পরিবার, নিজের জমি নেই এমন পরিবার এবং বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী সদস্যের দায়িত্ব বহনকারী পরিবারগুলোকে আমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত করি। এই কাজ আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীরাও আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।