← ফিরে যান

স্কুল-কলেজের সরকারি জমিতে বৃক্ষরোপণ

স্কুল-কলেজের সরকারি জমিতে গাছ লাগাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা।

দেশজুড়ে স্কুল-কলেজের চত্বরে যে সরকারি জমি বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকে, সেখানে গাছ লাগানোর কাজে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকি। সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে, খেলার মাঠের কিনারায় কিংবা সমাবেশ চত্বরের আশপাশে এমন জায়গা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই থেকে যায়। সেই জমিতে উপযোগী গাছ লাগাতে এবং চারা বড় না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিতে আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করি।

কাজটি শুরু হয় প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানের জমি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা দিয়ে। খেলার জায়গা নষ্ট না করে কোথায় গাছ লাগানো সম্ভব তা আমরা একসঙ্গে ঠিক করি, মাটি ও পানির প্রাপ্যতা বুঝে চারা বাছাই করি এবং কেবল দ্রুত বাড়ে এমন একজাতীয় গাছ না লাগিয়ে ছায়াদানকারী, ফলদ ও দেশীয় কাঠের গাছের মিশ্রণ রাখার পরামর্শ দিই। রোপণের দিনে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই গাছ লাগায়। প্রতিটি চারার দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা ক্লাবের হাতে দেওয়ার অনুরোধ আমরা করি, যাতে পানি দেওয়া, বেড়া দেওয়া ও মরে যাওয়া চারার জায়গায় নতুন চারা লাগানোর কাজ রোপণের দিন পেরিয়ে গেলেও কারও স্পষ্ট দায়িত্ব হিসেবে থেকে যায়।

ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়া, বাতাসে ভেসে থাকা ধুলা আর ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়া—পরিবেশের এই চাপ আমাদের দেশে প্রতিদিনের বাস্তবতা। প্রতিষ্ঠানের চত্বরের গাছ ধুলা ও ধোঁয়া কিছুটা ঠেকায়, মাটি ধরে রাখে, গরমের দিনে শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দা কিছুটা ঠান্ডা রাখে এবং পুরোনো গাছ হারিয়ে ফেলা পাখিদের আশ্রয় দেয়। আর যে শিক্ষার্থী শুকনো মৌসুমে নিজের হাতে চারায় পানি দিয়েছে, গাছের প্রয়োজনীয়তা সে কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় নয়, অভিজ্ঞতা দিয়েই বোঝে।

দেশের যেকোনো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা, যাদের চত্বরে এমন খালি সরকারি জমি রয়ে গেছে, এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে। ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ক্লাব, স্কাউট ও গার্ল গাইড দল এবং নিজের পুরোনো প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গাছ লাগাতে আগ্রহী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও আমরা স্বাগত জানাই।